প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা
বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশের দুটি সমুদ্র সৈকত থেকে আয় সামান্য। এদের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে আয় বেশি এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে আয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম। উন্নতমানের সৈকত দুটির মনোমুগ্ধকরীদের জন্য সিকিউরিটির ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের নিরাপত্তা আবাসিক হোটেল ও খাওয়ার নিরাপদ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা নেই। সমুদ্র সৈকতের আশে পাশে সৌন্দর্যের উপকরণ নিরাপদ নয়। আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতা, এমপি, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লেপার সিকিউরিটি থাকার কারণে ওই সাধারণ জনগণ, প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বিদেশি পর্যটকদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সমস্যা: মনোমুগ্ধকরীদের নিরাপত্তার বড় সমস্যা। তাদের হোটেলে থাকা ও খাওয়ার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। অভিজাত হোটেলগুলিতে সিকিউরিটির সমস্যা। সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় অনেক মনোমুগ্ধকরী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও চোর ডাকাতের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে বাসায় ফিরছে। যার কারণে দেশি ও বিদেশি অনেক মনোমুগ্ধকরী চাহিদা থাকলেও সমুদ্র সৈকতে যায় না। ফলে দেশের আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রস্তাব: পৃথিবীর মধ্যে দুটি দেশে থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখা যায় তার মধ্যে একটি জাপান এবং অন্যটি বাংলাদেশের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। এই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সহ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মনোমুগ্ধকরীদের জন্য উন্নত মানের ও নিরাপত্তা সকল ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের থাকা ও খাওয়ার জন্য উন্নতমানের আবাসিক নিরাপদ হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থাকতে হবে। আবাসিক হোটেল ও সমুদ্র সৈকতের সন্নিকটে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। সৈকতের লোকাল থানার সকল পুলিশদের স্পেশাল ক্ষমতা দিতে হবে যাহাতে পুলিশরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। সমুদ্র সৈকতের দুটিতে কিছু দূর পর পর একটি সাইনবোর্ডে একটি অভিযোগের নম্বর থাকবে। কোন মনোমুগ্ধকরী হাতের বিপদে পড়লে ঐ অভিযোগ নম্বরের ফোন করতে পারবে এবং থানা থেকে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সিকিউরিটির ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য পুলিশ ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সকল কিছু সমুদ্র সৈকত দুটির থানায় হেফাজতে থাকবে। রেস্টুরেন্টগুলাতে ভেজালমুক্ত খাবারের ও পরিষ্কার পরিবেশনার জন্য অন্ততপক্ষে একবারে ত্রৈমাসিক পরিদর্শক টিম দ্বারা পরিদর্শন করতে হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি জায়গায় সরকারি নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। যাহাতে সমুদ্র সৈকতে কোন দূর্ঘটনা ঘটলে ঐ থানার যথাযথ কর্মকর্তার জবাব দিহিতার সাথে সাজার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। উন্নত প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন হলে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। উপকারিতা: সমুদ্র সৈকত দুটি পর্যটকদের ভ্রমণ করার জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। নিরাপত্তা সহ থাকা ও খাওয়ার উন্নত ব্যবস্থা জন্য বর্তমানে তুলনায় পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে এই দুটি সৈকত এলাকার বেকার লোকজনের বিভিন্ন ব্যবসা ও চাকরির মাধ্যমে অনেক বেকার সমস্যা দূর করতে পারবে। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
বর্তমান অবস্থা ও সমস্যা: বর্তমানে বাংলাদেশের মংলা বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহৃত হয়ে অনেক কম অর্থ উৎপাদন হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমস্যা হচ্ছে। পোর্টের লেবারদের কাজ কম হচ্ছে এবং অনেক লেবার বেকার হয়ে পড়েছে। প্রস্তাব: চট্টগ্রাম বন্দর ও মংলা বন্দরে ব্যবস্থাপনা করে বাংলাদেশ অনেক অর্থ আয় করতে পারবে এবং অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া কোন অর্থ ব্যয় হবে না। বিদেশি সরকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকার মতবিনিময়ের সময় আমাদের দেশের বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিতে হবে। যখন বিদেশিরা এই বন্দর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিবেন তখন মিনিমাম চুক্তির মাধ্যমে উক্ত বন্দর চালু করতে হবে। চুক্তির শর্ত: ক) পোর্টের সিকিউরিটি বাংলাদেশ সরকার দিবে। খ) পোর্ট থেকে শিপ মাল লোড ও আনলোডের কাজ বাংলাদেশের নাগরিক করবেন। গ) পোর্টের চার্জ বাংলাদেশ নিবে না। ঘ) বাংলাদেশের সীমান্তের ভিতরে পরিবহনের ভাড়া পোর্ট ব্যবহারকারী দেশ দিবে। ঙ) বাংলাদেশের ব্যবহারকারী রাস্তায় জন্য পোর্ট ব্যবহারকারী দেশ টোল দিবে। চ) পরিবহনের সিকিউরিটির জন্য অতিরিক্ত পোর্ট ব্যবহারকারী দেশ দিবে। উপকারিতা: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এবং অনেক বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশে সরকারের প্রধান কর্তৃক প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হন। প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শক্রমে অন্যান্য বিচারক নিয়োগ হয়। বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন নিয়োগ কমিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেন। একজন রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও হস্তক্ষেপ রয়েছে। যে কোনো সময় সরকারি দলের মতামতের বিপরীতে কাজ করলে চাকরি থেকে বহিষ্কার ও বদলীর ঘটনা ঘটে। সমস্যা: সরকারি দলের হস্তক্ষেপের কারণে যোগ্য ও মেধাসম্পন্ন লোক নিয়োগ পাচ্ছে না। টাকার বিনিময়ে অযোগ্য লোক নিয়োগ পাচ্ছে এবং ঘুষ ও দুর্নীতি বাড়ছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিয়মাবলীর কারণে সাধারণ জনগণসহ রাষ্ট্রের সকল ধরনের কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এই সুযোগে কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঘুষ দুর্নীতি করছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রস্তাব: সরকার প্রধান কর্তৃক প্রধান বিচারপতি, সেনাবাহিনীর প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান, বিডিজিআরের প্রধান ও পুলিশ বাহিনীর প্রধান সংবিধান অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে ৫ বছরের জন্য নিয়োগ দিবেন। নিয়োগ দেওয়ার পর ঐ ৫ বছরের মধ্যে তাদের কাজ সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী করতে হবে এবং সরকার প্রধান কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। যদি কোনো বিভাগের কর্মকর্তা সংবিধানের নিয়ম ভঙ্গ করে এবং অন্যায় করে তবে প্রধান বিচারপতি সহ ঐ বিভাগের অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের কমপক্ষে ২০ জনের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে অন্যায়কারী প্রমাণিত হলে তাকে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী বিচার বিভাগ তার বিচারের কাজ সম্পন্ন করবে এবং সরকার প্রধানের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। উল্লেখ্য এই কর্মকর্তাদের অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে বিভাগীয় প্রধানসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের ২০ জনের সমন্বয়ে নিয়োগ কমিটি কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি দলের বা রাষ্ট্র প্রধানের কোনো হস্তক্ষেপ সেখানে থাকবে না। চাকরি থেকে বহিষ্কার, বদলি এবং বদলীসহ সকল ব্যাপারে যুক্ত নিয়োগ কমিটি সংবিধানের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যদি কোনো অসদুপায় অবলম্বন করে তবে প্রধান বিচারপতি ও সিনিয়র বিচারপতিদের সমন্বয়ে ২০ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম গঠন করে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা বিধান থাকবে এবং বিচারকার্য কোর্টে সম্পন্ন হবে। প্রধান বিচারপতি সহ অন্যান্য প্রধানগণ যদি আইন ভঙ্গ করেন এবং সেটা প্রমাণিত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে অনুরূপ বিচারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারি দলের কোনো হস্তক্ষেপ সেখানে থাকবে না। রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারি প্রধান উল্লিখিত প্রধানগণের নিয়োগ ব্যক্তি অন্য কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। উপকারিতাঃ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সরকারি দলের এমপি মন্ত্রীদের ঘুষের ব্যবসা বন্ধ হবে এবং দেশ থেকে দুর্নীতি দূর হবে। নিয়োগ কমিটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। যোগ্যতা সম্পন্ন লোক তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি পাবেন। অযোগ্য উদ্দেশ্যকারী ব্যক্তিরা চাকুরি করতে পারবেন না। দেশের উন্নয়ন দ্রতগতিতে বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশে কম শিক্ষিত, অর্থ শিক্ষিত ও বেশি শিক্ষিত সব ধরণের লোকই সাংবাদিকতা করছেন। অনেক সাংবাদিক বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার জনসমক্ষে ব্ল্যাকমেল করছেন। কিছু সাংবাদিক সঠিক পথে থেকেও সত্য ঘটনাকে প্রকাশ করতে পারছেন না। সমস্যা: সকল রাজনৈতিক নেতা সহ বিভিন্ন পেশাজীবী তাদের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে। অনেক সাংবাদিকদের ভয়ে পুলিশও সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। দেশের এমপি, মন্ত্রী, বিচার ব্যবস্থা ও আইন ব্যবস্থার অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। দেশের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর। ভাল সাংবাদিকরা তাদের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারছে না। মিথ্যা সংবাদিকার কারণে জনগণের মধ্যে বিদ্রোহ গড়ে উঠছে। প্রস্তাব: সাংবাদিকদের নিয়োগের ব্যাপারে সংবিধানের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ থাকতে হবে। কোন সাংবাদিক মিথ্যা ঘটনাকে চাপা দিয়ে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কমপক্ষে ১০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা প্রদান করতে হবে। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে এবং প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ সহ অনুরূপ সাজা ব্যবস্থা করতে হবে। কোন সাংবাদিক সঠিক প্রমাণ ছাড়া কোন সংবাদ প্রচার করতে পারবে না। উল্লেখিত প্রস্তাবগুলো সংবিধানে একটি আইন পাস এবং বাস্তবায়নের কাজ প্রয়োজন। উপকারিতা: সাংবাদিক দেশের সকল ক্ষেত্রে সত্য উন্মোচন সংবাদের পদে চাপাবাজি এবং প্রচার করবেন। জনগণের মিথ্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারবে না। সংসদ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ সহ সকল পেশাজীবী নির্ভয়ে সঠিক কাজগুলো করতে পারবেন। দেশ দুর্নীতি মুক্ত হবে। জনগণ স্বচ্ছভাবে চলাচল করতে পারবে।