পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
বর্তমান অবস্থা ঃ আমাদের দেশের সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্য ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। যেমন- মাছ, মাংস, শাক-সবজি, ফল ইত্যাদি। এই সকল ভেজাল খাদ্য খেয়ে মানুষের নানাবিধ অসুখ হচ্ছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও কয়েকজন পুলিশ সহ একটি তদারকি টিম গঠন করে বাজারে গিয়ে মাঝে মাঝে পরিদর্শন করছে এবং সাময়িক কিছু জরিমানা দিয়ে ঐ ব্যবসায়ী ভেজালমুক্ত উদ্রব্য বিক্রি শুরু করছে। ভেজাল প্রতিরোধ টিমের প্রশিক্ষণ না থাকার সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। ধাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলোর মালিক বা ম্যানেজারসহ সকল কর্মী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। সমস্যা ঃ ভেজাল দ্রব্য মানুষের কিডনিতে ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করছে। পর্যটকদের নানাবিধ অসুখ হচ্ছে এবং এক সময়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর হোটেল ও রেস্টুরেন্টের খাবার থেকে অনেক মানুষ বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। বিদেশী পর্যটকরা বাংলাদেশের এসব খাবার থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে দেশে এবং বিদেশে গিয়ে অন্যান্য বিষয়াদি জানায়। ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। প্রস্তাব: সকল খাদ্যে ভেজাল এবং ফরমালিন মুক্ত করার জন্য প্রত্যেক জেলায় একটি নির্ধারিত অফিস থাকবে। এই অফিসে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের সন্দেহজনক খাদ্যদ্রব্য ল্যাবরে পরীক্ষা করতে পারবে এবং এই অফিসের সকল কর্মচারী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। যাহাতে প্রত্যেক সেন্টারে যেমন- সকল প্রকার খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন মুক্ত রাখা এবং খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্টের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং ঐসব দোকানের কর্মরত সকলের ঐ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বৈধ ব্যবসা ও চাকুরি করার জন্য উচ্চ প্রশিক্ষণের উপর একটি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। এই সার্টিফিকেটধারী প্রদানকারী অফিসারেরাই যে কোন সময় বাজারে গিয়ে কোন দ্রব্যে ভেজাল বা ফরমালিন মেশানো আছে কি-না, সেটা যাচাই বাছাই করবে এবং খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্টের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সহ সকল খাবার খাওয়ার উপযোগী কি-না বা খাবারের তাপমাত্রা সঠিকতা মাপাই বাধ্য থাকবে। ঔষুধের দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোন দ্রব্য আছে কি-না বা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে কি-না সেটিও পরিদর্শন করবে। উক্ত সকল প্রতিষ্ঠানের যাচাই বাছাই ও পরিদর্শন করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী হলে তাকে প্রথমে জরিমানা সহ সাজার প্রদান করতে হবে। পরবর্তীতে যদি দোষী হয় তবে তাকে চাকরিচ্যুত সহ সার্টিফিকেট বাতিল এবং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল সহ কমপক্ষে ২০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজার প্রদান করতে হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কোন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়া যাবে না। এছাড়া কর্মস্থলে দৃষ্টান্তমূলক সাজার দিলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন মেশানো বন্ধ করবে। জেলার নির্ধারিত অফিস থেকে কখনো কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে পাওয়া গেলে তাকে চাকরিচ্যুত সহ কমপক্ষে ২০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা প্রদান করতে হবে। উপকারিতা: দেশের সকল খাদ্যদ্রব্য ভেজাল ও ফরমালিন মুক্ত হবে। মানুষ বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাবে। মানুষের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। হোটেল ও রেস্টুরেন্টের খাবার খাওয়া উপযোগী হবে। ঐসবের দোকানে নির্ধারিত দ্রব্য ক্রয় করা যাবে। বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা বাড়বে।
বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশের বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অপরিচ্ছন্ন ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে প্রটেকশনের ব্যবস্থা নেই। যেমন- এক্স-রে, এম.আর.আই ইত্যাদি করার সময় যারা এই কাজগুলো করে তারা প্রটেকশনের কোনো কিছু পরিধান করে না এবং রোগীর লোকেরা সেখানেই উপস্থিত থাকে। যার ফলে পরবর্তীকালে ঐ রোগীর লোক ও যারা এই কাজগুলো করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ডাক্তার রোগ নির্ণয়ের জন্য যে টেস্টগুলো দেওয়া প্রয়োজন সেগুলো ছাড়াও অতিরিক্ত টেস্ট দিয়ে থাকে। প্রেসক্রিপশনে গুণগত মানের ওষুধ বাড়ানোর কিছু কিছু ড্রাগ কোম্পানি দিয়ে থাকে। কিন্তু ভালো ডাক্তার সঠিক রোগ নির্ণয় করা ও সঠিক প্রেসক্রিপশন করার অসাধুপ্রায় ডাক্তারদের সাথে তাদের মতের মিলফাক দেখা দিচ্ছে। সমস্যা: গরীব লোকজনের জন্য রোগী দেখাতে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে। অনেক ডাক্তার সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পেরেও তাদের হয়রানির জন্য বিভিন্ন টেস্ট দিয়ে থাকে। ফলে তারা ঐ টেস্টগুলোর টাকার অভাবে করাতে পারছে না এবং ডাক্তার তাদের প্রেসক্রিপশন করছে না। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল সহ বেসরকারি হাসপাতালেও এই ধরণের সমস্যা হচ্ছে। অনেক ডাক্তারের চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে ব্যবসার দিকটা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে দেশের চিকিৎসা সেবার মান খুবই খারাপ অবস্থানে চলে যাচ্ছে। ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। প্রস্তাব: সরকারি ও বেসরকারি সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সহ সকল ধরনের প্রোটোকল থাকতে হবে। ডাক্তার রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট ব্যতীত অন্য কোন টেস্ট দিতে পারবেন না। ডাক্তার রোগী দেখার পর উন্নতমানের কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লিখবে। ডাক্তার এবং রোগীর মধ্যে পরস্পরের সুসম্পর্ক থাকবে। গরিব ও ধনী রোগীর ক্ষেত্রে ডাক্তারদের কাছে কোন বৈষম্য থাকবে না। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিতরে টেস্ট করার সময় রোগীর লোক থাকবে না। ভুল চিকিৎসা বা গাফিলতির জন্য ডাক্তারকে জরিমানা সহ রোগীর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে এবং পুনরায় ঐ ভুল করলে তার ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এই আইনের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ সংবিধানে লিখিত থাকতে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক জেলায় একটি করে সরকারি অফিস থাকবে এবং সেই অফিসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মচারীরা প্রতি মাসে যে কোনো সময় কমপক্ষে একবার পরিদর্শন সাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদান করবে। উক্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বিচারবিভাগ ও আইন বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেক্ষেত্রে উক্ত অফিসের কর্মচারীদের সঠিক ঘাটাই বাঁধাই করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা সহ চাকুরিচ্যুত ব্যবস্থা থাকতে হবে। ডাক্তারদের বাধ্যতামূলক রোগীর ক্ষতিপূরণের ইনসুরেন্স থাকতে হবে। ঐ ইনসুরেন্সগুলো সংবিধানের আইন অনুযায়ী চলবে। উপকারিতা: ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। রোগী দ্রুত রোগ মুক্ত হবে। গরিব অসহায় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাবে। ডাক্তারদের প্রতি মানুষের খারাপ ধারণাগুলো দূর হবে। দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত হবে। দেশের অর্থিক সম্পদ বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হবে না।