সমাজকল্যাণ ও মানবাধিকার
বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশে বর্তমানে ঘুষের জন্য সাজার প্রবর্তনের আইন থাকলেও দেখা যাচ্ছে যে, একজন কর্মচারী ঘুষ নিয়ে দেশের নামাবলি অপকর্ম করে যাচ্ছে। এতেও সারা দেশে প্রত্যেকটি দপ্তরের ঘুষের জন্য সাধারণ জনগণ কোনো অধিকার নিয়ে কাজ করতে পারছে না। ঘুষের প্রবণতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, প্রত্যেকটি অফিসের অধিকারিক অফিস পিয়ন থেকে শুরু করে অধিকারিক কর্মকর্তার পর্যায় পর্যন্ত ঘুষের টাকা আদায় হয়। সব ঘুষের টাকা নিয়ে উচ্চ কর্মকর্তা অধিকারিকদের কাছে ফাঁকি দেয়। এদের পিছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ মন্ত্রী ও এমপিদের খবরদারি। সমস্যা: ঘুষের জন্য দেশের সাধারণ অর্থনীতি ছাড়াও কোনো চাকরি পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের টাকা যোগাড় করতে না পারার কোনো অফিসে গিয়ে তাদের কাজগুলো করতে পারছে না। বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। প্রস্তাব: কোনো বিভাগ বা দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি ঘুষ নেয় এবং সেটা প্রধান সাক্ষ্যের ধরা পড়ে, তাহাকে সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড সাজার বিধান আইন পাস করতে হবে। সংবিধানের পরিবেশবান্ধব এবং জনসাধারণের জন্য সংবিধান। তাই সংবিধানের উপর প্রস্তাবনা না থাকলে আইন সংরক্ষণকারী হবে এবং অপরাধকারীকে সঠিক প্রমাণিত প্রশাসনিক রেকর্ড থাকবে। আইন বাস্তবায়ন করতে হলে সকল ধরনের বাধা সুষ্ঠুভাবে আসবে এবং সুষ্ঠুভাবেই প্রস্তাবনার আইন থাকতে হবে। সরকারি প্রযোজনার নিয়োগ, বদলি, বরখাস্ত ক্ষমতা না থাকলে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। উপকারিতা: এই আইন পাস ও বাস্তবায়ন হলে কোনো দপ্তরে ঘুষ চলবে না। সকল দপ্তরের কাজ সঠিকভাবে চলবে। সাধারণ জনগণ সঠিক অধিকার নিয়ে তাদের কাজগুলো করতে পারবে। পত্রিকায় অভিযোগ ছাড়াই তাদের যোগ্যতানুসারে চাকরি পাবে। দেশের সকল দপ্তরের যোগ্য প্রাপ্ত চাকরি পাবে এবং দেশের উন্নয়নের কাজ দ্রুততর হতে পারবে।
বর্তমান অবস্থা: চাঁদাবাজদের পুলিশ ধরে কিছুদিন পর ছেড়ে দেয়। আবার কিছু কিছু চাঁদাবাজদের পুলিশ সহযোগিতা করে এবং তাদের পেছনে দলীয় এমপি বা মন্ত্রীদের হাত থাকে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি দিন দিন বেড়ে হয়েছে। সরকারি ও দলীয় লোকেরা চাঁদাবাজির কারণে অর্থের এবং রাস্তায় চলার অনুপযোগী গাড়ি নামার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। চাঁদাবাজির কারণে রাস্তাঘাটসহ সকল নির্মাণ কাজেও অপচয়ের ব্যাপার দেখা যাচ্ছে। সমস্যা: চাঁদাবাজদের জন্য সরাসরি কোনো সাজার ব্যবস্থা না থাকার কারণে দিন দিন বেড়েই চলেছে। সারা দেশের জনগণ চাঁদাবাজদের কারণে ঠিকমতো কোনো ব্যবসা করতে পারছে না এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি অনেক বেশি বিপদে পড়ছে। অনেকে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী ও সংগঠনের ক্ষতির কারণে রাস্তায় ভোগান্তি বাড়ছে। চাঁদাবাজির কারণে জনসাধারণ যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়ছে। চাঁদাবাজির কারণে প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বিদেশীরা এটি দেশে আর বিনিয়োগ করবে না। প্রস্তাব: বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে প্রধান সাক্ষ্যের ধরা পড়লে তাকে সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির আইন কার্যকর করতে হবে এবং সেটার সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের সুনিশ্চিত শাস্তি ব্যবস্থা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তথ্য অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি চাঁদাবাজি করে এবং তার প্রমাণ নিশ্চিত হয়, তবে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিতে হবে না। প্রত্যেক চাঁদাবাজের কোনো না কোনো দায়বদ্ধতা থেকে প্রমাণিত হতে হবে। সরকারের প্রধানদের হস্তক্ষেপ না থাকলে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। উপকারিতা: এই প্রস্তাব কার্যকর করা হলে বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি সহ সকল সমস্যা দূর হবে। দেশের জনসাধারণ নির্ভয়ে জীবন যাপন করতে পারবে। সকল ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী সহজেই কাজ করতে পারবে এবং দেশের উন্নয়ন দ্রুততর হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি উন্নতমানের প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র আছে। যেমন- স্কয়ার হাসপাতাল, ইব্রাহিম হাসপাতাল, জাপান বাংলাদেশ যৌথ হাসপাতাল, ল্যাব এইড হাসপাতাল ইত্যাদি। এই সকল হাসপাতালগুলোর বিভাগের শহরে পূর্ণাঙ্গ শাখা বিস্তার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো। বর্তমান অবস্থা ও সমস্যা: ঢাকার বাইরে যে কোনো জায়গায় বেশি অসুস্থ রোগী নিয়ে ডাক্তারদের কাছে যাওয়া মাত্র ঢাকায় পাঠানোর জন্য বলে। বর্তমানে দেশের সবকটি বৃহত্তম প্রাইভেট হাসপাতাল ঢাকায় অবস্থিত। ঢাকা শহরের যানজটের কারণে এবং রোগীর বাড়ি থেকে যাওয়ার সময়সীমার কারণে রোগী বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এজন্য একটি রোগীর তার ফলাফল ৪/৫ জন সহীর জন্য খরচ অনেক বৃদ্ধি পায়। এ সকল হাসপাতালগুলোর সুযোগ-সুবিধা নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়ে যাওয়াদের ছেলেমেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী স্কুল, কলেজে আসন সংস্থা সহ অন্যান্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রস্তাব: প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে একটি প্রাইভেট টপ হাসপাতালের একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা খুলতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, স্কয়ার হাসপাতালের একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা যদি খুলনা শহরে খোলা হয় এবং ঢাকার যে সকল ব্যবস্থা আছে সেই সকল ব্যবস্থা যদি খুলনায় থাকে তাহলে খুলনার আশেপাশের সকল জেলার রোগী ঢাকায় না গিয়ে খুলনায় যাবে। রোগীর যাতায়াত খরচ কম লাগবে এবং রোগী স্বাভাবিক থাকবে। অনেক সময় যাতায়াতে বেশি সময় লাগলে রোগী বেশি অসুস্থ হয়ে যায় এবং সময় মতো পৌঁছাতে না পারলে রোগী মারা যায়। অন্য দিকে খুলনা শহরে অবস্থিত স্কয়ার হাসপাতালের সকল ডাক্তার, নার্সসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছেলেমেয়েদের জন্য ভালো স্কুল, কলেজে প্রয়োজন হবে এবং সে সকল স্কুল, কলেজে শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ্যের আয় বৃদ্ধি পাবে। এভাবে খুলনা শহরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সহ অন্যান্য অনেক সুযোগ সুবিধা হবে। পর্যায়ক্রমে আমাদের দেশের সব কটি বিভাগীয় শহরে উন্নতমানের হাসপাতালের ন্যূনতম একটি করে পূর্ণাঙ্গ শাখা খুলতে হবে। অন্যথায় ঐ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালের সেবার মান এবং ঢাকার শহরের হাসপাতালের সেবার মান এক হবে না। উন্নত প্রস্তাবগুলির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন থাকবে এবং সেটার বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপকারিতা: দেশের উন্নতমানের হাসপাতালগুলোর পূর্ণাঙ্গ শাখা বিভাগীয় শহরে থাকলে বিভাগীয় শহরসহ প্রত্যেক জেলার চিকিৎসা, আর্থিক ও কর্মসংস্থানের উন্নতি করা সম্ভব হবে। ঢাকা শহরের অনেক লোক বিভাগীয় শহরে যাবে এবং যানজট অনেকাংশে কমবে। আর্থিক ব্যয় কম হবে এবং রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাবে।