Document

অবকাঠামো ও জনসেবা

বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশে গ্যাস ও পানির জন্য কোনো মিটারের ব্যবস্থা নেই। যার ফলে গ্যাস ও পানির অপচয় হয়। অনেক পরিবারের রান্নার পরে ম্যাট গ্যাসের চুলা চালু থাকে। পানির ট্যাপের ভারার পরে উপচিয়ে পানি পড়ে যাচ্ছে, সেগুলো অনেকের খেয়াল থাকে না। অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেকেই পানি ব্যবহার করছে এবং অনেক পানি নষ্ট হচ্ছে। এভাবে দেশের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। সমস্যা: গ্যাস ও পানির অপচয় একটি বড় ধরনের সমস্যা। দেশের সম্পদ অতিরিক্ত অপচয়ের কারণে ভবিষ্যতে দেশের জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর কারণে অনেক জায়গায় অগ্নি সংযোগ ঘটছে। পানির অপব্যবহার ও ট্যাপের ভারার পরে উপচিয়ে পড়া পানিতে পাশের বাসার লোকের ক্ষতি হচ্ছে। প্রস্তাব: প্রতিটি পরিবারের জন্য বিদ্যুতের মতো গ্যাস ও পানির জন্য পৃথক পৃথক মিটার ব্যবহার করতে হবে। সকল পরিবারের জন্য পানি বা গ্যাসের মিটার ফিক্স করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে গ্যাস বা পানির কোনো নির্দিষ্ট হার এবং ব্যাংক থেকে কিস্তি নিয়ে মিটার বসানো যাবে। এই প্রস্তাবটি প্রতিটি এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে। যে গ্রাহক এই আইন অমান্য করবে, তাকে নির্ধারিত জরিমানা দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাজার ব্যবস্থা রাখতে হবে। উপকারিতা: উন্নত প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশের আর বৃদ্ধি পাবে। গ্যাস ও পানির অপব্যবহার রোধ হবে। জনগণ খরচ অত্যন্ত সচেতনভাবে পরিচালনা করবে। প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হবে না এবং দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের গ্যাস ও পানির অপচয় অনেকটাই কমে যাবে।

মেইন রোড এবং পার্শ্ব রোডের সংযোগ স্থলই মেইন রোডের ইন্টারেন্স। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। বর্তমান অবস্থা ঃ আমাদের দেশের সকল মেইন রোডের পাশে কিছু দূর পর পর ছোট রোডের সংযোগ রয়েছে। এই ছোট রোডগুলো ঢালুভাবে মেইন রোডের সংগে মিলিত হয়েছে। এই ঢালু ছোট রোডগুলো দিয়ে যখন কোন ছোট গাড়ি মেইন রোডে আসে তখন মেইন রোড দিয়ে যাওয়া বড় গাড়ির সঙ্গে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়ে থাকে। ছোট গাড়ি মেইন রোডে উঠার সময় থামায়ে মেইন রোডের দুই পাশে দেখতে গিয়ে ঢালুর কারনে পিছনের দিকে চলে যায়। ফলে মেইন রোডে উঠার জন্য তার গতি বাড়িয়ে দেয় এবং মেইন রোড দিয়ে আসা বড় গাড়ির সাথে সংঘর্ষ হয়। মেইন রোড ও পার্শ্ব রোডের সংযোগ স্থল বা মেইন রোডের ইন্টারেন্সে কোন স্টপ সাইন দেওয়া নেই । সমস্যা ঃ মেইন রোডের ইন্টারেন্সে কোন স্টপ সাইন না থাকা এবং ছোট রোডগুলো মেইন রোড থেকে বেশি নিচু ও ঢালু থাকার কারণে পার্শ্ব রোড দিয়ে আসা গাড়িগুলো না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে মেইন রোডে উঠে আসে । ফলে প্রায়ই মেইন রোডের চলা গাড়ির সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। এটা বর্তমানে রোডের জন্য বড় ধরনের সমস্যা। এই সম্যার কারণে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা বাড়ছে। এই দূর্ঘটনায় অনেক যাত্রী ও গাড়ির ড্রাইভারসহ অন্যান্য শ্রমিকআহত বা নিহত হচ্ছে। পার্শ্ব রোড ও মেইন রোডের সকল যাত্রীই আতঙ্কে থাকে । বর্তমান যে দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে তার বেশিরভাগ দুর্ঘটনা এই পার্শ্ব রোডের কারণে । প্রস্তাব ঃ পার্শ্ব রোড ও মেইন রোডের সংযোগ স্থল বা মেইন রোডের ইন্টারেন্সে অবশ্যই স্টপ সাইন থাকতে হবে। পার্শ্ব রোড থেকে আসা গাড়িগুলো স্টপ সাইন-এ সম্পূর্ণ থামাবে এবং পরবর্তীতে মেইন রোডে কোন গাড়ি আছে কি-না সেটা উভয় দিকে দেখে গাড়িগুলো মেইন রোডে উঠবে। কোন গাড়ি যদি এই নিয়ম অমান্য করে তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা দিতে হবে। পার্শ্ব রোডগুলো মেইন রোড থেকে বেশি ঢালু করা যাবে না। যাহাতে গাড়িগুলো স্টপ সাইনে দাড়াতে পারে। স্টপ সাইনে পার্শ্ব রোড ও মেইন রোড মিনিমাম ১০০ গজ সম উচ্চতায় থাকবে এবং পিছনের দিকে ঢালু থাকবে না। উপকারিতা ঃ মেইন রোডের ইন্টারেন্সে স্টপ সাইন দেওয়া থাকলে পার্শ্ব রোডের গাড়িগুলো স্টপ সাইনে সম্পূর্ণ থামাবে এবং মেইন রোডের গাড়িগুলো চলার কোন অসুবিধা হবে না। ফলে ঐ স্থানে দূর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

বর্তমান অবস্থা ঃ আমাদের দেশে বর্তমানে সকল হাইওয়ে বা মেইন রোডে যে পুলিশ টহলে থাকে তারা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত নয়। তাদের খেয়াল খুশিমত গাড়ি থামায় এবং গাড়ি চেক করে কিন্তু গাড়িগুলো কোথায় থামাবে বা কোথায় কত গতিতে চালাবে এবং রোডের নিয়ম কানুন মেনে কোন ড্রাইভার গাড়ি চালায় কি-না সেটা তারা খেয়াল করে না এবং তাদের কাছে গাড়ির গতি মাপার কোন যন্ত্র নাই । গাড়ীর ব্রেক, ব্রেক লাইট, হেড লাইট, ইন্ডিকেটার লাইট ইত্যাদি সঠিক যাচাই-বাছাই করে না । সমস্যা ঃ হাইওয়ের পুলিশ ট্রাফিক আইন না জানার কারণে ড্রাইভাররা তাদের ইচ্ছামত রোডে গাড়ি চালায়। গতি রোধক ও গতিসীমা লঙ্ঘন করে গাড়ি চালায় ফলে গাড়িগুলোর দূর্ঘটনা বেশি ঘটছে। রোডে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দূর পাল্লার কোন গাড়ি সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। প্রস্তাব ঃ হাইওয়ে টহলরত সকল পুলিশকে অবশ্যই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত করতে হবে এবং তাদের ট্রাফিক আইনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ট্রাফিক আইন না জানা কোন পুলিশ হাইওয়েতে ডিউটি দিতে পারবে না। ট্রাফিক আইন অমান্য করে হাইওয়েতে কোন ড্রাইভার যদি গাড়ি চালায় তখন ড্রাইভারের আইন ভঙ্গের কারণে তার লাইসেন্সের উপর মামলা করতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ গাড়ীর জন্য গাড়ীর উপর মামলা করতে হবে। কোন দূর্ঘটনা ঘটলে হাইওয়ের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক তথ্য বের করবে এবং যে গাড়ি দোষী সেই গাড়িকে কেন্দ্র করে রিপোর্ট লিখবে। টহলরত পুলিশ দোষী গাড়ির নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিলে এবং প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০ বছর থেকে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত সাজা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আইন থাকতে হবে। উপকারিতা ঃ সকল হাইওয়ের পুলিশ যখন ট্রাফিক আইন জেনে ডিউটি করবে তখন রোডে কোন ড্রাইভার নিয়মের বাহিরে গাড়িচালাতে পারবে না। রোডের দূর্ঘটনা ও যানজট অনেকাংশে কমবে। রোডে কোন ত্রুটিপূর্ণ গাড়ী থাকবে না এবং ড্রাইভাররা সতর্কভাবে গাড়ী চালাবে।

পি.আই.পি ইন্সুরেন্স বলতে পারসোনাল ইনজুরি প্রটেকশনকে বুঝায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির প্রটেকশনের জন্য পি.আই.পি ইন্সুরেন্স ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশের অধিকাংশ গাড়ির মালিকদের পি.আই.পি ইন্সুরেন্স নেই। রোডে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ি চালানো বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা: দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি এবং গাড়ির মালিক কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। অনেক সময় ঐ গাড়ি সারানোর মতো অর্থ না থাকায় গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। মালিকও পঙ্গু অবস্থায় পড়ে থাকে। গাড়ির শ্রমিক ও যাত্রীদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকে না। প্রস্তাব: সকল গাড়ির মালিককে পি.আই.পি ইন্সুরেন্স বাধ্যতামূলক করতে হবে। রোডে কোনো দুর্ঘটনা হলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহনের ক্ষতিপূরণের জন্য ইন্সুরেন্স থেকে কভারেজ চেক প্রদান করে সমস্যা সমাধান করতে হবে। রোডে সর্বদা গাড়ি চলাচলের উপযোগী থাকতে হবে। সাধারণ জনগণ গাড়ি আটকিয়ে রোডে কোনো যানজটের সৃষ্টি করতে পারবে না। রোডে কোনো গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে না। হাইওয়ের পুলিশ দ্বারা সকল গাড়ির অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে ইন্সুরেন্সের কাজ সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপকারিতা: রোড দুর্ঘটনায় কোনো গাড়ি আটক থাকবে না। রোডে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে না। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষ ও পরিবহনের ক্ষতিপূরণের যথাযথ ব্যবস্থা থাকবে। রোডে কোনো যানজটের সৃষ্টি হবে না। যাত্রীরা সঠিক সময়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।