Document

রাজনৈতিক ও নৈতিক মানদণ্ড

গণতন্ত্র: গণতন্ত্র বলতে আমরা প্রথমেই ব্যক্তি গণতন্ত্র বুঝি। ব্যক্তিগত অর্থে ব্যক্তি বাক স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাধীনতা। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মতামত কোনো বাধা, ভয়, পরামর্শ ছাড়া দিতে পারাকে গণতন্ত্র বলে। এই ভাবে ব্যক্তিগতত্ত্ব থেকে সমাজ সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলেই আমরা পাব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হবে প্রকৃত গণতান্ত্রিক দল বা সংগঠনের সংহতি। একটি গণতান্ত্রিক দল গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় নেতা বা দলীয় প্রধান নির্বাচিত করতে হবে সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটের বা মতামতের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দল গঠন: গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলই একটি গণতান্ত্রিক দেশের মেরুদণ্ড। এই রাজনৈতিক দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গঠন করতে ইউনিয়ন কমিটি, থানা কমিটি, জেলা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যায়ক্রমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করতে হবে। এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হলে প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ সদস্যদের নিয়ে দল গঠন করতে হবে এবং ইউনিয়নের দলীয় সকল সদস্যদের দলীয় কার্ড থাকতে হবে এবং মাসিক সর্বনিম্ন ১০/- টাকা হারে চাঁদা প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই চাঁদার টাকা গুলো ইউনিয়নের দলীয় সদস্যদের মধ্যে গোপন ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে উচ্চ কমিটি দলীয় ব্যালট একাউন্টে জমা রাখবে। দুই বছর পর পর এই কমিটি গঠনের নির্বাচন হবে। প্রতি মাসে অথবা মাসিক চাঁদা আদায় ও সাংগঠনিক ব্যয়ের একটি হিসাব সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। উক্ত রেজুলেশনে গত মাসের কার্যক্রম আলোচনা ও পরবর্তী মাসে কার্যক্রমকল্পনা উল্লেখ থাকবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে থানা কমিটি ও জেলা কমিটি গঠন করতে হবে। থানা ও জেলার দলীয় সদস্যদের গোপন ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে নির্বাচিত কমিটি থানা ও জেলার সকল দলীয় সদস্যদের নিখুঁত থেকে যথাক্রমে ২০/- ও ৪০/- টাকা মাসিক চাঁদা নিয়ে উক্ত কমিটি দলীয় ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা রাখবে। মাসিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব ইউনিয়ন কমিটির মতে থানা ও জেলা কমিটি মাসিক সদস্য সভা উপস্থাপন করবে এবং দলীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আলোচনা ও কার্যক্রমকল্পনা উক্ত সভার রেজুলেশনে উল্লেখ থাকবে। ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ের দলীয় সকল সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে হবে। উক্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আয়-ব্যয়ের জন্য ইউনিয়ন, থানা ও জেলা কমিটি থেকে একটি অংশ নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি প্রতি মাসে একবার ইউনিয়ন, থানা ও জেলা কমিটির সমন্বয়ে সদস্য সভা করবে। উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির মাসিক আয়-ব্যয় ও গত মাসের কার্যক্রমের আলোচনা এবং পরবর্তী মাসের কার্যক্রমকল্পনা সহ বিশদ আলোচনা রেজুলেশনে উল্লেখ থাকবে। নিয়মে সকল কমিটির সকল সদস্যের চাঁদা গ্রহণ ও বণ্টন চক্রের মাধ্যমে দেওয়া হলো। সব কমিটির সকল সাধারণ সদস্য রশিদের মাধ্যমে টাকা প্রদান করবে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কমিটি গঠনে গোপন ভোট ছাড়া প্রকাশ্যে হাঁ/না ভোট বা মতামত গ্রহণ যোগ্য হবে না। কারণ অনেক সদস্য বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রকাশ্যে মতামত দিতে পারে না। ইউনিয়ন, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি দুই বছর পর নির্বাচন করতে হবে। এভাবে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে। কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ছাড়া কোনো দেশ গণতান্ত্রিক পরিপূর্ণতা পায় না। উন্নতিশীল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলপঞ্জির আইন বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ থাকতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলই পূর্ণগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে গণ্য হবে।