আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
বর্তমান অবস্থা ঃ আমাদের দেশে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার নামেই সম্পত্তি থেকে যায়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির নামে সম্পত্তি থাকলে পরবর্তী ওয়ারিসদের মাঝে ভাগ বন্টন নিয়ে বিশাল কোন্দল শুরু হয়। কোন এক সময় এই কোন্দল খুবই খারাপ আকার ধারণ করে মানুষ খুন হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে পিতার মৃত্যুর পর মান সম্মানের কারনে অনেক পরিবার জমি জমা ভাগ করে না। পরবর্তীতে ঐ মৃত ব্যক্তির নাতি- নাতনি এই ভাগ বন্টন নিয়ে বিশাল গোন্ডগোল সৃষ্টি করে। যার প্রভাব আত্মীয় স্বজন সহ পাড়া প্রতিবেশিও ঐ ঘটনায় জড়িয়ে যায় । সমস্যা ঃ মৃত ব্যক্তির নামে সম্পত্তি থাকায় ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনির মধ্যে ভাগ বন্টন নিয়ে বিশাল সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ মামলা এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ঘটছে। মানুষ খুন সহ বিভিন্ন প্রকারের হয়রানি মূলক মামলা মৃত ব্যক্তির নামে সম্পত্তি থাকার কারনেই ঘটছে । প্রস্তাব ঃ মানুষের মৃত্যুর পরে তার নামের সম্পত্তি সরকারি আইনের মাধ্যমে স্ত্রী, পুত্র ও কন্যার মধ্যে বন্টন সহ মালিকানা নামকরণ করতে হবে। এভাবে মৃত ব্যক্তির নামে সম্পত্তি না রেখে তার অংশীদার জীবিত ব্যক্তিদের নামে সম্পত্তি রাখার আইন পাস করতে হবে। কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার ওয়ারিশগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যার যা প্রাপ্য অনুযায়ী দলিল করে নিতে হবে। ভোগ দখল ও এ্যায়োজ বদল বলতে কোন কিছু থাকবে না। জীবিত লোকের নামে দলিল ছাড়া কোন সম্পত্তি থাকবে না । উপকারিতা ঃ কোন মানুষের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগন তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী দলিল করে নিলে জমি জমার ভাগ বন্টন ও মালিকানা নিয়ে কোন পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ বাধবে না। কোন মানুষের মধ্যে কোন অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করবে না। পরস্পর একে অপরের প্রতি আন্তরিক থাকবে। দেশে কোন গোল্ডগোল, খুন কিছুই ঘটবে না। দেশের মামলা অনেকাংশে কমে যাবে ।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো ও বিভিন্ন পেশার জনগণ রাস্তার উপর মিটিং, মিছিল করে থাকে। এর ফলে রাস্তায় যানজটসহ বিভিন্ন ব্যবসায় ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা: রাস্তায় উপর মিটিং, মিছিল যানজটের সৃষ্টি করছে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণ জনগণ ও পরিবহন যাত্রীদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অত্যন্ত জরুরি সময়েও হাসপাতাল পৌঁছাতে পারছে না এবং রাস্তায় তাদের মৃত্যু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলো বন্ধ থাকায়, বিদেশগামী যাত্রী বিদেশে যেতে পারছে না। ফায়ার সার্ভিস সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে পারছে না। এক কথায়, কোনো জনগণই তাদের গন্তব্যে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছে না। প্রস্তাব: দেশের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রতিটি শহরে মিটিং বা জনসভা করার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকতে হবে। প্রত্যেকটি শহরে একটি নির্দিষ্ট ময়দান থাকবে। ঐ ময়দানে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিসাপেক্ষে মিটিং করা যাবে। মিটিং করার সময় রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি করলে, যে কোনো নাগরিক বা প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। মিটিং, মিছিল করার সময় কোনো জনগণের ক্ষতি হলে, তার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণকারীদের দিতে বাধ্য করতে হবে। উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলোর একটি সু-নির্দিষ্ট আইন করতে হবে এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপকারিতা: উক্ত আইনটি প্রয়োগ হলে রাস্তায় কোনো যানজটের সৃষ্টি হবে না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। দেশের অর্থনৈতিক কোনো ক্ষতি হবে না।
বর্তমান অবস্থা: আমাদের দেশের বেশিরভাগ হাট-বাজার, দোকান মেইন রোডের পাশে অবস্থিত। গাড়ি রাখা ও গাড়িতে কাজ করা হয় মেইন রোডের পাশে। সমস্যা: জনগণের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে। রোডে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। জনগণ সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। রোডে দুর্ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। গাড়ির চালক ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছে না। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে এবং দেশের অর্থ অনেকাংশে অপচয় হচ্ছে। প্রস্তাব: সকল মেইন রোড থেকে হাট-বাজার, দোকান সর্বনিম্ন ২০ গজ দূরে করতে হবে। রাস্তার উপরে যানবাহন চলাচলের বাধার সৃষ্টি করে এমন কোনো গাড়ি রাখা ও গাড়িতে কাজ করা যাবে না। যদি কোনো গাড়ি রাখা হয় বা গাড়িতে কোনো কাজ করা হয়, তবে ৫০০০/- টাকা জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লিখিত প্রস্তাবটি যথাযথ আইন পাশ করতে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হাইওয়ের কোনো জনসমাগমস্থলে কাগজপত্রের কাজ করা যাবে না, যেমন- হাইওয়ের গরু-ছাগল বাজার, ধান-পাট ও খড় ফসলের বাজার, রাজনীতিক তোরণ, ব্যানার ইত্যাদির কাজে ব্যবহার করা যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে এবং তার জন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে দায়িত্ব তাকে নিতে বাধ্য করতে হবে। উপকারিতা: উল্লিখিত প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে রোডের দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। রোডে কোন যানজটের সৃষ্টি হবে না। হাট-বাজার ও দোকান জনসাধারণের সুবিধামত স্থানে হবে। ব্যবসায়ীদের লাভবান হবে। পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক থাকবে এবং যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে যে সকল ড্রাইভার বাংলাদেশের গাড়ি চালায়, তাদের অধিকাংশ ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত নয়। ড্রাইভাররা তাদের ইচ্ছামতো গাড়ি চালায়। সমস্যা: ট্রাফিক আইন না জানার কারণে ড্রাইভারদের গাড়ি চালানোর ফলে বিভিন্ন দুর্ঘটনাসহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটছে। অনেক মানুষ পঙ্গু হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। বেশিরভাগ গাড়ি চলাচলে পরিবহন শিল্প ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। অনেক পরিবহন ব্যবসায়ী এই ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে চাচ্ছে। চালকদের ট্রাফিক আইন অজ্ঞতার কারণে নিজেরা অপরাধী হচ্ছে। প্রস্তাব: পরিবহন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সকল ড্রাইভারকে ট্রাফিক আইন জানানো এবং বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন করতে হলে ড্রাইভারদের রাস্তার বিভিন্ন সাইনবোর্ড, চিহ্ন থেকে কোডেড পথচারি পাশ, গতিরোধক এবং গতিসীমার পরীক্ষা এবং ভায়োলেটিং চিহ্ন উচ্চতর ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লিখিত চিহ্নগুলো গাড়ি না চালালে ঘটনার জরিমানা বাড়াতে হবে। সর্বনিম্ন ১০০/- টাকা থেকে জরিমানার সব টাকা ড্রাইভার ট্রাফিক আইন মানলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্টপ সাইন গাড়ির চালক না মানলে অনন্য কাজ বাধ্যতামূলক হবে। উল্লিখিত প্রস্তাবটি আইনগত করে প্রশাসন চালু করবে এবং বাস্তবায়ন করবে। বি.ডি.আর বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালকদের সঠিক যাচাই-বাছাই কারার পর লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। অসহায় বা কোনো ড্রাইভারকে লাইসেন্স দিলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। উপকারিতা: রাস্তায় যানজটসহ কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। পরিবহন ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি হবে না। পরিবহন শিল্প বাঁচিয়ে থাকবে। মেইন রোডে দুই পাশের লোকজন কোনো অসুবিধা ছাড়া চলাচল করতে পারবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে বাংলাদেশের সংবিধানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাজার প্রদানের আইন আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, দেশের সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সঠিক সাজার বিধান কার্যকর করা যাচ্ছে না। একজন অপরাধী বড় কোনো অপরাধ করলে তার যে ধরনের সাজা হওয়ার কথা ছিল, সেটা না করে নামে মাত্র সাজা দিয়ে ভবিষ্যতে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। অন্য অপরাধীরা না করেও সাজা পেয়ে যাচ্ছে। সমস্যা: আমাদের দেশের আইনের প্রতি সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা কমেছে। আইনের অপব্যবহারের কারণে প্রশাসকের কোনো জনসাধারণের প্রতি দায়িত্বশীলতা কাজ করছে না। উপযুক্ত ছেলেদের ভুল সমাধানে নানান সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা এসব ভুলচুকের কারণে আইনের উপযুক্ত শাস্তি প্রাপ্ত হতে পারছে না। সাধারণ জনগণ কোনো সঠিক বিচার পাচ্ছে না। সরকারি প্রযোজনা এবং কর্মচারীর নিয়োগ, বদলি ও বরখাস্ত থাকার কারণে এই সমস্যা গুলি বেশি হচ্ছে। প্রস্তাব: বাংলাদেশের সংবিধানের আইনকে কার্যকর করতে হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো অন্যায় করে এবং প্রধান আইন আদালতে সঠিক বিচারে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে। এই আইন বাস্তবায়ন করতে হলে কোনো এমপি বা মন্ত্রীর কোনো অপরাধ হলে সেটার প্রমাণ আদালতে তাদের আদালতের আদেশ অনুযায়ী হবে। উল্লেখিত প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে হবে প্রশাসনিক সংগঠন, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগকে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি প্রযোজনার নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাজ হস্তক্ষেপ থাকবে না। অন্যান্য এই প্রস্তাব কার্যকর হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। উপকারিতা: উল্লেখিত আইনটি বাস্তবায়িত হলে কোনো অপরাধী সাজা না পেয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। আইনের প্রতি সকল জনগণের পূর্ণ আস্থা ফিরে আসবে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি যেমন এমপি, মন্ত্রীদের কোনো অপরাধ করা সহ তাদের অপরাধের সাজার সাহায্য পাবে। দেশ থেকে সমাজ দূর হবে এবং দেশের উন্নয়ন নির্ভর উন্নয়নের জন্য কার্যকর আইন নিয়ে শ্রদ্ধাশীল হবে।