অর্থনীতি ও আর্থিক নীতি
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ধারা শ্রম আইন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেটা খুব কম জায়গায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টার জায়গায় ১২ ঘণ্টা কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে অনেক সময় মালিক কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, যা সম্পূর্ণ মানবতাবিরোধী কাজ। অন্যান্যদিকে কিছু শ্রমিকও অল্পপুঁজিতে অসাদুপায়ের পথ বেছে নিচ্ছে। সমস্যা: শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ধারা ঠিক করা সম্ভব হয়নি। ফলে শ্রমিক ও মালিক উভয়ের সমস্যার ভিত্তিতে কোনো সঠিক মূল্যায়ন যদি সঠিকভাবে না করা হয়, তবে তা বিদ্রোহ সৃষ্টি করবে এবং একপর্যায়ে শ্রমিক আন্দোলনের যোগ দেবে। মালিকরা সর্বদা ভয়ে থাকে যে, কখন শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেবে। এভাবে পর্যবেক্ষণে দেশের জনগণেরও সামাজিক সমস্যা থেকে যাচ্ছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক অসাদুপায়ে অবলম্বন করে অনেক অর্থ উপার্জন করছে। এক কথায় বলা যায় যে, শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন যদি তাদের সংসার চালানোর মতো না হয়, তবে কোনো শ্রমিক সংযোগ সঠিক কাজ করবে না। ফলে দেশের উন্নয়নে বিশাল সমস্যার সৃষ্টি হবে। একজন শ্রমিকের পেটে ক্ষুধা থাকলে তার কার্যক্ষমতা কমে যাবে এবং মনোযোগ উদ্যমও কমে যাবে। অন্যদিকে, মালিকও সেই শ্রমিক থেকে পুরোপুরি কাজটি পাবেন না। এক পর্যায়ে উভয়ের উৎপাদন কমে যাবে এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। প্রস্তাব: একটি পরিবারে সাধারণত সর্বনিম্ন চারজন সদস্য থাকে এবং একজন উপার্জন করে। সেক্ষেত্রে এক ব্যক্তি দৈনিক ৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করলে যে পারিশ্রমিক পাবে, সেটা দিয়ে তার সংসার চালাতে হবে। এজন্য একজন শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ধার্য করতে হবে। তার সংসারের সর্বনিম্ন মাসিক ব্যয় ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা। একজন শ্রমিক সপ্তাহে ৪৮-৫০ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে পারে। তাহলে একজন শ্রমিককে প্রতি ১ (এক) ঘণ্টার কাজের পারিশ্রমিক ২৫/- (পঁচিশ) টাকা হিসেবে ন্যূনতম বেতন ধার্য করতে হবে। উপকারিতা: একজন শ্রমিক যখন সঠিক বেতন পাবে, তখন সে মনোযোগ সহকারে কাজ করবে। অন্যান্যদিকে, যে মালিকের কাছে ঐ শ্রমিক কাজ করে, সেই মালিকেরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুবই ভালো চলবে। এভাবে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উন্নতির দিকে যাবে। ফলে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক ভালো থাকবে।
বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঋণ সুদে টাকা প্রদান করে। অনেক ব্যাংক ও এনজিও তাদের ইচ্ছামতো সুদের হার প্রয়োগ করছে। এই সুদের হার ৫% থেকে ৩০% এর উপরে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমস্যা: সুদের হার ১০% এর বেশি হওয়ার কারণে ঋণ গ্রহীতারা যে উদ্দেশ্যে টাকাগুলো নেয়, সেটা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি তারা সুদের টাকা দিতে গিয়ে নিজের সম্পদ বিক্রি ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না। এভাবে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসছে। অনেকে গৃহহীন হয়ে ঘরে ঘরে দিন মজুরির কাজ করে কোনোভাবে জীবন ধারণ করছে। সুদের হার বেশি হওয়ার কারণে দেশের সাধারণ জনগণ, কৃষক, ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের উন্নয়নে ভাটা পড়ছে। প্রস্তাব: আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা এবং ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে ব্যাংক ও এনজিও সকল ঋণদাতার গোচি ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১০% এর মধ্যে রাখতে হবে। ঋণদাতাদের বিভিন্ন খাতে ব্যবসা কমাতে হবে এবং ঋণ গ্রহীতারা নির্দিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য সহ সকল কাজ সঠিকভাবে করছে কিনা, সেটা ঋণদাতাদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শমূলক সহযোগিতা করতে হবে। এই প্রস্তাব নিয়ে একটি আইন তৈরি করতে হবে এবং উপযুক্ত আইন বাস্তবায়নের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে। উপকারিতা: সকল ঋণ গ্রহীতা নির্ধারিত ব্যবসা-বাণিজ্য করে লাভ করতে পারবে এবং কোনো ঋণ খেলাপি থাকবে না। দেশের সকল শ্রেণির জনগণের উন্নয়ন হবে। এভাবে একটি দেশ আর্থিকভাবে উন্নত হবে।
ব্যস্ত শহর বলতে আমাদের দেশে সাধারণত বিভাগীয় শহরগুলোকে বোঝায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত শহর হিসেবে ঢাকা শহর পরিচিত। নিচে এই ব্যস্ত শহর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে ঢাকা শহরের যানজট সহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা হচ্ছে। ঢাকা শহরের যানজট এতটা খারাপ অবস্থায় আছে যে, এক ব্যক্তি বাসা থেকে বের হয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। সমস্যা: ঢাকা শহরের যানজট বড় ধরনের একটি সমস্যা। এই যানজট জনগণের কাজে গতি অনেক নিচে নিয়ে এসেছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জন্য বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা শহরের জীবনযাত্রার মান খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। কোনো জনগণ সময়মত সঠিক কাজ করতে পারছে না। গাড়ির তেল খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অর্থনৈতিক অনেক ক্ষতি হচ্ছে এবং দেশের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। প্রস্তাব: ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের জন্য ছোট গাড়ির সময় ও রাস্তাঘাঁটি করতে হবে। সেখানে ঢাকা শহরের রাস্তায় সমস্যা সহ ছোট গাড়ির সময়ের উপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সকাল ৯.০০-৯.৩০ টার মধ্যে খুলবে এবং সকাল ২.০০-৩.০০ টার মধ্যে বন্ধ হবে। এছাড়া অফিসসমূহ সকাল ১০.০০-১১.০০ টার মধ্যে শুরু হবে এবং বিকেল ৫.০০-৬.০০ টার মধ্যে শেষ হবে। ছোট গাড়িগুলো নির্দিষ্ট রাস্তায় চলাচল করবে এবং সময় ঠিক থাকবে। ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম কঠোর করতে হবে। (কোনো এলাকায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে জরিমানার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় সার্বিক একটি আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।) উপকারিতা: উল্লেখিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরে অনেক যানজট কমে যাবে এবং সকল শ্রেণির জনগণ সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারবে। শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারবে এবং দেশের আর্থিক উন্নয়নও বৃদ্ধি পাবে। এভাবে প্রত্যেকটি জনগণ তার কাজে সফল হতে পারবে এবং সময় সাশ্রয় হবে ও জ্বালানি খরচ কমবে।